টেলিগ্রাম বট থেকে ইনকাম আইডিয়া (২০২৬ আপডেট)

টেলিগ্রাম বটগুলো মূলত বিভিন্ন টাস্ক দেয়। টাস্কগুলো কম্পিলিট করলে তারা টাকা দেয়।টেলিগ্রাম বট থেকে ইনকাম করার বিষয়টা এভাবেই কাজ করে।

অনেকে টেলিগ্রাম কে শুধু মেসেজিং এপ্স হিসেবে দেখে।এটা মূলত মেসেজিং এপ্স হলেও এখানে প্রচুর অনলাইন ইনকামের কাজকর্ম হয়।

ক্রিপ্টো মাইনিং, বিভিন্ন বট থেকে আয়, ডিজাটাল মার্কেটিং এমনকি বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান যেমন ডারাজ থেকে ইনকাম এর বিষয়ও এখানে জড়িত।

এই আর্টিকেলে আমি আপনাদের ২০২৬ সালের লেটেস্ট বটগুলো নিয়ে জানাবো।যেসব বট বাংলাদেশে অরিজিনালি পেমেন্ট দেয় তাদের সম্পর্কে বর্ণনা করবো।

টেলিগ্রাম বট নিয়ে বেশ কয়েক বছর কাজ করেছি।আমার এক বন্ধুও কাজ করেছে। আগে বটগুলো বেশ ভালো পরিমাণে টাস্ক দিতো। তারপর সে অনুযায়ী পেমেন্ট দিতো।

কিন্তু এখন ফ্রড/ ভুয়া বটের সংখ্যা বেড়ে গেছে। তাই পেমেন্ট রিস্ক ফ্রি বট খুজেই পাওয়া যায় না।

আমি আপনাদের জন্যে খুজে খুজে বেস্ট টেলিগ্রাম বট গুলো নিয়ে এসেছি। যেগুলো দিয়ে আপনি বেশ ভালো পরিমাণে টেলিগ্রাম থেকে ইনকাম করতে পারবেন।

চলুন বটগুলো সম্পর্কে জানা যাক।

জনপ্রিয় কিছু বাংলাদেশি টেলিগ্রাম ইনকাম বট

বাংলাদেশে তেমন বট নেই যেগুলো আপনাকে গ্যারান্টেড ভাবে রিকমেন্ড করতে পারবো।

দেখা গেছে দিনের পর দিন কাজ করিয়ে নেয় কিন্তু পেমেন্ট দেওয়ার বেলা ফাকি।

তবে বাংলাদেশের কিছু টেলিগ্রাম চ্যানলেল রিকমেন্ড করতে পারবো যেখান থেকে আপনি ইনকাম করতে পারবেন ।সেখানে তাদের নিজস্ব বট আছে ।ক্রিপ্টো মার্কেট মনিটনিং সহ বিভিন্ন কাজ কর্ম হয়।

যেমনঃ

চ্যানলের নাম সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা
Riyad’s Creation৫৪ হাজার+
Online Income২৩ হাজার+
Online Income BD১২ হাজার+

নিচের বিস্তারিত বলছিঃ

১। Riyad’s Creation: ক্রিপ্টো ও ট্রেডিং গাইডলাইন

টেলিগ্রাম বট দিয়ে কিভাবে ইনকাম করা যায়

Riyad’s Creation’ চ্যানেলটি মূলত ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং এবং এয়ারড্রপ হান্টিং-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

৫৪,০০০-এর বেশি সাবস্ক্রাইবার নিয়ে এই চ্যানেলটি একটি বড় কমিউনিটিতে পরিণত হয়েছে।

এখান থেকে আয়ের প্রধান উপায়গুলো হলো:

ক্রিপ্টো এয়ারড্রপ (Airdrop) থেকে আয়

এই চ্যানেলের প্রধান ফোকাস থাকে নতুন নতুন এয়ারড্রপ শেয়ার করা।

এয়ারড্রপ হলো এমন একটি প্রসেস যেখানে নতুন ক্রিপ্টো প্রোজেক্টগুলো তাদের প্রচারের জন্য ইউজারদের ফ্রিতে টোকেন দেয়।

  • কিভাবে করবেন: চ্যানেলে শেয়ার করা লিংক এবং ইনস্ট্রাকশন অনুযায়ী কাজগুলো (যেমন: টুইটারে ফলো করা, টেলিগ্রাম গ্রুপে জয়েন করা) সম্পন্ন করতে হয়।
  • আয়ের সম্ভাবনা: ধৈর্য ধরে নিয়মিত এয়ারড্রপে জয়েন করলে মাস শেষে ভালো পরিমাণের টোকেন জমে যায়, যা এক্সচেঞ্জে বিক্রি করে টাকায় রূপান্তর করা যায়।

ট্রেডিং সিগন্যাল ও মার্কেট আপডেট

চ্যানেলটিতে ক্রিপ্টো মার্কেটের আপডেট এবং ট্রেডিং সিগন্যাল দেওয়া হয়।

অর্থাৎ, কোন কয়েনটি এখন কেনা উচিত বা কোনটির দাম বাড়তে পারে, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

যারা ট্রেডিং শিখছেন, তাদের জন্য এই আপডেটগুলো অত্যন্ত কাজের।

ভিডিও টিউটোরিয়াল ও রিসোর্স

এই টেলিগ্রাম চ্যানেলের সাথে সংযুক্ত ইউটিউব চ্যানেলটিতে (Riyad’s Creation) নিয়মিত টিউটোরিয়াল আপলোড করা হয়।

নতুনরা টেক্সট পড়ে না বুঝলে ভিডিও দেখে খুব সহজেই কাজ শিখতে পারেন।

২। Online Income: প্যাসিভ ইনকাম ও কমিউনিটি সাপোর্ট

Telegram bot

Online Income’ চ্যানেলটি (সাবস্ক্রাইবার ২৩,০০০+) নতুনদের জন্য অনলাইন আয়ের বিভিন্ন সহজ মেথড নিয়ে কাজ করে।

বিশেষ করে যারা একদম শুরু থেকে শুরু করতে চান, তাদের জন্য এই টেলিগ্রাম বট থেকে আয় করা বেশ সহায়ক হবে।

মাইক্রো টাস্ক ও অ্যাপ রেফারেল

এই চ্যানেলটিতে প্রায়ই বিভিন্ন ইনকাম অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের খোঁজ দেওয়া হয়।

  • ছোট কাজ: অ্যাপ ডাউনলোড, সাইন-আপ বা ভিডিও দেখার মতো ছোট ছোট কাজ করে আয় করার সুযোগ থাকে।
  • রেফারেল প্রোগ্রাম: বিভিন্ন অ্যাপের রেফারেল লিংক শেয়ার করা হয়। আপনি সেই লিংক ব্যবহার করে জয়েন করার পর নিজের রেফারেল লিংক তৈরি করে বন্ধুদের ইনভাইট করে কমিশন আয় করতে পারেন।

কমিউনিটি ডিসকাশন বা আলোচনা

এই চ্যানেলের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর অ্যাক্টিভ ডিসকাশন গ্রুপ।

নতুন অবস্থায় কাজ করতে গিয়ে কোনো সমস্যায় পড়লে গ্রুপে প্রশ্ন করা যায়।

অভিজ্ঞ মেম্বার বা এডমিনরা সরাসরি সমাধানের পথ বাতলে দেন। একা একা কাজ করার চেয়ে কমিউনিটির সাথে কাজ করলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

স্ক্যাম অ্যালার্ট বা সতর্কবার্তা

অনলাইনে প্রচুর ভুয়া সাইট বা অ্যাপ থাকে। এই চ্যানেলটি নিয়মিত এসব স্ক্যাম প্রজেক্ট সম্পর্কে সতর্ক করে দেয়, যাতে আপনার সময় ও অর্থ নষ্ট না হয়।

নতুনদের জন্য কিছু কার্যকরী পরামর্শ (Actionable Advice)

আপনি যদি এই দুটি চ্যানেল থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে চান, তবে নিচের টিপসগুলো মেনে চলুন:

১. নোটিফিকেশন অন রাখুন: টেলিগ্রামে অফারগুলো খুব অল্প সময়ের জন্য আসে। তাই চ্যানেল দুটির নোটিফিকেশন অন (Unmute) করে রাখুন যাতে কোনো আপডেট মিস না হয়।

২. পিন করা পোস্ট পড়ুন: চ্যানেলের উপরে ‘Pinned Message’ অংশে সাধারণত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গাইডলাইন বা সেরা অফারগুলো থাকে। জয়েন করার পর প্রথমেই পিন পোস্টগুলো চেক করুন।

৩. নিরাপত্তা বজায় রাখুন: মনে রাখবেন, কোনো এডমিন কখনো আপনাকে আগে ইনবক্স করে টাকা চাইবে না। কেউ যদি চ্যানেলের এডমিন সেজে টাকা চায়, বুঝবেন সেটি স্ক্যাম।

৪. ধৈর্য ধরুন: অনলাইন ইনকাম বা ক্রিপ্টো থেকে আয় করতে হলে ধৈর্যের বিকল্প নেই। প্রথম দিনেই আয়ের আশা না করে আগে শেখার দিকে মনোযোগ দিন।

৩। Online Income BD: টেলিগ্রাম টাস্ক আর্নিং

Online Income BD” চ্যানেলটি মূলত একটি এগ্রিগেটর বা তথ্য প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে।

এরা নিজেরা কোনো কাজ বা প্রজেক্ট তৈরি করে না, বরং ইন্টারনেটে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন ইনকাম অপরচুনিটি বা সুযোগগুলো খুঁজে বের করে তা সাবস্ক্রাইবারদের মাঝে শেয়ার করে।

এদের কাজের ধরন পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, এরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন “টেলিগ্রাম ইনকাম” মেথড পোস্ট করে থাকে।

চ্যানেলটির অ্যাডমিনরা সাধারণত ক্রিপ্টোকারেন্সি এয়ারড্রপ, মাইনিং অ্যাপ এবং পিটিসি (Paid to Click) সাইটগুলোর লিংক শেয়ার করে।

তাদের মূল ফোকাস থাকে এমন সব প্ল্যাটফর্মের ওপর, যেখানে বিশেষ কোনো কারিগরি দক্ষতা ছাড়াই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে কাজ করা সম্ভব।

ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করতে তারা প্রায়শই পেমেন্ট প্রুফ বা টাকা উত্তোলনের স্ক্রিনশট শেয়ার করে, যা নতুনদের মাঝে আগ্রহ তৈরি করে।

এই চ্যানেলটিতে সাধারণত তিন ধরনের টেলিগ্রাম বট বা ইনকাম সিস্টেম বেশি দেখা যায়:

১. টাস্ক কমপ্লিট বট: এই বটগুলোতে জয়েন করার পর ব্যবহারকারীকে নির্দিষ্ট কিছু কাজ দেওয়া হয়।

যেমন—অন্য কোনো টেলিগ্রাম চ্যানেলে জয়েন করা, টুইটারে ফলো করা বা ইউটিউব ভিডিও দেখা।

২. মাইনিং বট: বর্তমানে “টেলিগ্রাম বট থেকে ইনকাম” করার সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হলো মাইনিং বট।

এই চ্যানেলটি বিভিন্ন কয়েন বা টোকেন মাইনিং করার বট শেয়ার করে, যেখানে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় একবার ক্লিক করে মাইনিং চালু রাখতে হয়।

৩. ইনভেস্টমেন্ট বা ডাবলিং বট: কিছু কিছু ক্ষেত্রে এরা এমন বট শেয়ার করে যেখানে ক্রিপ্টোকারেন্সি ইনভেস্ট করলে নির্দিষ্ট সময় পর তা দ্বিগুণ হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

যদিও এ ধরনের সিস্টেম অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

আয় করার পদ্ধতি (রেফারেল, টাস্ক, অ্যাড ভিউ)

চ্যানেলে শেয়ার করা প্রজেক্টগুলো থেকে আয় করার পদ্ধতি বহুমুখী। তবে প্রধানত নিচের মেথডগুলোই বেশি প্রচলিত:

  • রেফারেল ইনকাম: এটিই এই ধরনের চ্যানেলের আয়ের মূল চালিকাশক্তি। ব্যবহারকারীরা যখন বটের লিংক শেয়ার করে অন্যদের জয়েন করান, তখন তারা একটি নির্দিষ্ট কমিশন পান।
  • মাইক্রো টাস্ক: ছোট ছোট কাজ যেমন—ফেসবুক পোস্টে লাইক দেওয়া, কমেন্ট করা বা অ্যাপ ইন্সটল করার মাধ্যমে পয়েন্ট বা টাকা আয় করা যায়।
  • অ্যাড ভিউ ও ক্যাপচা এন্ট্রি: কিছু বটের কাজ হলো ব্যবহারকারীকে বিজ্ঞাপন দেখানো। প্রতিবার বিজ্ঞাপন দেখার জন্য বা সঠিক ক্যাপচা টাইপ করার জন্য অ্যাকাউন্টে অল্প পরিমাণ ব্যালেন্স যোগ হয়।
  • এয়ারড্রপ পার্টিসিপেশন: নতুন কোনো ক্রিপ্টোকারেন্সি মার্কেটে আসার আগে তারা ফ্রিতে কিছু টোকেন বিতরণ করে। এই চ্যানেলটি সেই এয়ারড্রপগুলোর লিংক ও জয়েন করার নিয়মাবলি শেয়ার করে।

প্রজেক্টে জয়েন করবেন যেভাবে

এই চ্যানেলের মাধ্যমে কোনো প্রজেক্টে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়াটি সাধারণত বেশ সরল। ধাপগুলো নিম্নরূপ:

  • প্রথমে চ্যানেলে দেওয়া লিংকে ক্লিক করলে ব্যবহারকারীকে নির্দিষ্ট টেলিগ্রাম বটে নিয়ে যাওয়া হয়।
  • সেখানে ‘Start‘ বাটনে ক্লিক করার পর বটের ভাষা নির্বাচন করতে হয়।
  • এরপর একটি ক্যাপচা (গাণিতিক বা টেক্সট) পূরণ করে মানুষ হিসেবে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে হয়।
  • বটটি তখন তাদের অফিশিয়াল চ্যানেল বা স্পন্সর চ্যানেলে জয়েন করার শর্ত দেয়।
  • সব শর্ত পূরণ করে ‘Check‘ বা ‘Verify‘ বাটনে ক্লিক করলেই একাউন্ট তৈরি হয়ে যায় এবং ড্যাশবোর্ড দেখা যায়।

পেমেন্ট সিস্টেমের ধরন

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কাজ করায় এই চ্যানেলটি এমন সব প্রজেক্ট বা বট শেয়ার করার চেষ্টা করে যেখানে পেমেন্ট মেথড সহজলভ্য।

তবে যেহেতু অধিকাংশ বট আন্তর্জাতিক বা ক্রিপ্টোকারেন্সি ভিত্তিক, তাই পেমেন্ট সিস্টেমগুলো সাধারণত নিম্নরূপ হয়:

  • ক্রিপ্টো ওয়ালেট: ট্রন (TRX), লাইটকয়েন (LTC), বা ইউএসডিটি (USDT) এর মাধ্যমে পেমেন্ট নেওয়া যায়। এর জন্য ট্রাস্ট ওয়ালেট বা বাইনান্সের প্রয়োজন হয়।
  • মোবাইল রিচার্জ: কিছু কিছু লোকাল বট বা অ্যাপ মোবাইল রিচার্জের মাধ্যমে ছোট পেমেন্ট দিয়ে থাকে।
  • বিকাশ ও নগদ: সরাসরি বিকাশ বা নগদে পেমেন্ট পাওয়ার সুযোগ কম থাকে। তবে থার্ড পার্টি এক্সচেঞ্জার ব্যবহার করে ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে টাকায় রূপান্তর করার গাইডলাইন মাঝে মাঝে চ্যানেলটিতে দেওয়া হয়।

গ্লোবাল মার্কেটের কিছু জনপ্রিয় টেলিগ্রাম বট

গ্লোবাল মার্কেটে টেলিগ্রাম বটের অভাব নেই ।তবে এজন্য পেমেন্ট নেওয়াটা একটা ভেজাল কাজ

তারপর ভাষার ব্যারিয়ার থাকে, কারণ ঐ বটগুলা অন্য ভাষায় কাজ করে যেমন ইংরেজি, রাশিয়ান, ফ্রেঞ্চ ইত্যাদি।

এসব যদি আপনি উপেক্ষা করতে পারেন তাহলে গ্লোবাল টেলিগ্রাম বটগুলো আপনার জন্য ।

কিছু জনপ্রিয় টেলিগ্রাম বটঃ

বটের নামসাপোর্টেড ক্রিপ্টোইনকাম রেঞ্জ
LootBits BotBTC, ETH
$1 – $30 প্রতি সপ্তাহে
ClickCoin Bot
BTC, DOGE, LTC$0.5 – $20 প্রতিদিনের ভিত্তিতে
Bitcoadz BotBTC$0.2 – $10 প্রতিদিন
LiteTask BotBTC, ETH, LTC$1 – $50 প্রতি সপ্তাহে
AdView BotBTC, LTC$0.1 – $15 প্রতি সপ্তাহে
ClickBee Bot (ClickBeeLTC / ClickBeeDOGE)LTC, DOGE$1 – $40 প্রতি সপ্তাহে
Daily Jobs AlertBTC, ETH$0.5 – $20 প্রতি সপ্তাহে
DOGE Crypto LotteryDOGE$0 – $500 প্রতি লটারি
Tron Crypto LotteryTRX$0 – $300 প্রতি লটারি
LTC Crypto LotteryLTC$0 – $400 প্রতি লটারি
TapSwap BotBTC, DOGE$1 – $25 প্রতি সপ্তাহে
UNLIMITED world – CRYPTO BotBTC, LTC, DOGE, TRX$5 – $100 প্রতি সপ্তাহে
Tron Biz BotTRX$2 – $50 প্রতি সপ্তাহে
HappyAds BotBTC, LTC, DOGE$0.5 – $20 প্রতি সপ্তাহে

নিচে বিস্তারিত জানা যাক।

১। LootBits Bot

বটের ধরন: মিক্সড (গেম এবং টাস্ক)

কিভাবে কাজ করে:
LootBits মূলত একটি গেম-এর মতো কাজ করে। আপনি প্রতি ঘণ্টায় জেমস (Gems) পাবেন।

এই জেমস ব্যবহার করে আপনি বাক্স খুলতে পারবেন, যেখান থেকে বিটকয়েন (BTC) বা অন্যান্য পুরস্কার পাওয়া যায়।

এছাড়াও, বিভিন্ন অফার ও টাস্ক সম্পন্ন করে অতিরিক্ত জেমস আয় করা সম্ভব। টেলিগ্রাম বট থেকে ইনকাম করার এটি একটি মজাদার উপায়।

  • আয়ের সম্ভাবনা: কম। আয় আপনার ভাগ্য এবং গেমে সক্রিয়তার উপর নির্ভর করে।
  • সুবিধা/অসুবিধা: সহজ ও মজাদার, তবে আয় সময়সাপেক্ষ এবং কম।
  • নিরাপত্তা টিপস: ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করবেন না, শুধু বটের কাজ করুন।

২। ClickCoin Bot

বটের ধরন: টাস্ক (বিজ্ঞাপন দেখা)

কিভাবে কাজ করে:
এই বটে আপনাকে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের লিঙ্ক দেওয়া হবে।

আপনাকে সেই লিঙ্কগুলোতে ভিজিট করে নির্দিষ্ট সময় (সাধারণত ১০-২০ সেকেন্ড) অপেক্ষা করতে হবে।

সময় শেষ হলে আপনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্রিপ্টোকারেন্সি পাবেন। টেলিগ্রাম বট থেকে ইনকাম করার জন্য এটি একটি খুবই জনপ্রিয় পদ্ধতি।

  • সুবিধা/অসুবিধা: কাজ সহজ ও দ্রুত করা যায়, তবে আয় কম এবং কিছু বিজ্ঞাপন ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
  • নিরাপত্তা টিপস: পাসওয়ার্ড শেয়ার করবেন না, শুধু নিরাপদ ও বিশ্বস্ত কাজ করুন।

৩. Bitcoadz Bot

বটের ধরন: টাস্ক (বিজ্ঞাপন দেখা)

কিভাবে কাজ করে:
Bitcoadz Bot অনেকটা ClickCoin Bot-এর মতোই কাজ করে।

এখানেও আপনাকে বিভিন্ন সাইট ভিজিট করতে বা অন্যান্য টেলিগ্রাম চ্যানেলে যোগ দিতে বলা হয়।

প্রতিটি কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর আপনার অ্যাকাউন্টে বিটকয়েন জমা হবে।

  • আয়ের সম্ভাবনা: কম। আয় নির্ভর করে প্রতিদিন কতগুলো বিজ্ঞাপন দেখেন।
  • সুবিধা/অসুবিধা: ব্যবহার করা সহজ, দ্রুত পেমেন্ট, তবে আয় কম ও কাজ সীমিত।
  • নিরাপত্তা টিপস: অচেনা লিঙ্ক এড়িয়ে চলুন, ব্যক্তিগত ওয়ালেট তথ্য গোপন রাখুন।

৪. LiteTask Bot

বটের ধরন: টাস্ক

কিভাবে কাজ করে:
এই বটে বিভিন্ন ধরনের ছোট ছোট কাজ পাওয়া যায়। যেমন—অন্যান্য টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দেওয়া, পোস্ট দেখা বা বিভিন্ন বটে স্টার্ট করা।

প্রতিটি কাজের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ লাইটকয়েন (LTC) দেওয়া হয়।

  • আয়ের সম্ভাবনা: কম থেকে মাঝারি। কাজ যত বেশি, আয় তত বাড়বে।
  • সুবিধা/অসুবিধা: কাজের বৈচিত্র্য, লাইটকয়েনে কম লেনদেন ফি; কিছু কাজ বিরক্তিকর, উত্তোলনের জন্য মিনিমাম ব্যালেন্স দরকার।
  • নিরাপত্তা টিপস: স্প্যাম চ্যানেল দেখলে দ্রুত লিভ নিন, কেবল নিরাপদ টাস্ক করুন।

৫. AdView Bot

বটের ধরন: টাস্ক (বিজ্ঞাপন দেখা)

কিভাবে কাজ করে:
AdView Bot আপনাকে টাকা আয়ের জন্য বিজ্ঞাপন দেখতে বলে। আপনি “View Ads” বাটনে ক্লিক করলে একটি বিজ্ঞাপনসহ পোস্ট আসবে।

নির্দিষ্ট সময় দেখার পর আপনার অ্যাকাউন্টে রুবেল (RUB) জমা হবে।

  • আয়ের সম্ভাবনা: কম। আয় খুবই সামান্য, তবে নিয়মিত কাজ পাওয়া যায়।
  • সুবিধা/অসুবিধা: কাজ সহজ, তুলনামূলকভাবে নিরাপদ, তবে আয় কম ও রুবেলের দর ওঠানামা করে।
  • নিরাপত্তা টিপস: ওয়ালেট তথ্য গোপন রাখুন, নিরাপদে টেলিগ্রাম বট থেকে ইনকাম করুন।

৬. ClickBee Bot (ClickBeeLTC / ClickBeeDOGE)

বটের ধরন: টাস্ক

কিভাবে কাজ করে:
ClickBee বটের বিভিন্ন সংস্করণ রয়েছে, যেমন LTC এবং DOGE-এর জন্য। এই বটগুলোতে মূলত সাইট ভিজিট করা, অন্য বটে মেসেজ ফরওয়ার্ড করা বা চ্যানেলে যোগ দেওয়ার মতো কাজ থাকে।

প্রতিটি কাজের বিনিময়ে আপনি নির্দিষ্ট ক্রিপ্টোকারেন্সি আয় করতে পারেন।

  • আয়ের সম্ভাবনা: কম। টেলিগ্রাম বট থেকে ইনকাম করার এটি একটি নির্ভরযোগ্য কিন্তু স্বল্প আয়ের উৎস।
  • সুবিধা/অসুবিধা: বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সিতে আয়, তুলনামূলক কম উত্তোলন সীমা; কাজ সীমিত, পুরস্কার কম।
  • নিরাপত্তা টিপস: রিভিউ দেখে বটে যোগ দিন, অজানা ফাইলে ক্লিক এড়িয়ে চলুন।

৭. Daily Jobs Alert

বটের ধরন: টাস্ক ও তথ্য

কিভাবে কাজ করে:
এই বটটি মূলত বিভিন্ন অনলাইন কাজের খবর দেয়।

তবে এর মাধ্যমে ছোট ছোট টাস্ক করেও আয় করা সম্ভব। যেমন—অ্যাপ ডাউনলোড করা, সার্ভে পূরণ করা ইত্যাদি।

এটি সরাসরি আয়ের চেয়ে কাজের সুযোগ খুঁজে দেওয়ার উপর বেশি মনোযোগ দেয়।

  • আয়ের সম্ভাবনা: মাঝারি। এখান থেকে ভালো কোনো কাজ পেলে আয় ভালো হতে পারে।
  • সুবিধা/অসুবিধা: শুধু টাস্ক নয়, বিভিন্ন চাকরির খবরও পাওয়া যায়; সরাসরি বট থেকে আয় কম, সময় বেশি লাগে।
  • নিরাপত্তা টিপস: কোম্পানি যাচাই ছাড়া আবেদন করবেন না, প্রতারকদের থেকে সতর্ক থাকুন।

৮. DOGE, Tron, এবং LTC Crypto Lottery

বটের ধরন: লটারি

কিভাবে কাজ করে:
এই বটগুলো লটারির মতো কাজ করে। আপনি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি (DOGE, TRX, বা LTC) দিয়ে টিকিট কিনতে পারেন।

নির্দিষ্ট সময় পর ড্র অনুষ্ঠিত হয় এবং বিজয়ীরা বড় পুরস্কার জেতেন।

  • আয়ের সম্ভাবনা: উচ্চ (তবে ঝুঁকিপূর্ণ)। খুব কম সম্ভাবনা, তবে জিতলে লাভ বেশি।
  • সুবিধা/অসুবিধা: বড় পুরস্কার, অংশগ্রহণ সহজ; টাকা হারানোর ঝুঁকি এবং নিশ্চয়তা নেই।
  • নিরাপত্তা টিপস: অতিরিক্ত অর্থ বিনিয়োগ করবেন না—এটি মূলত ভাগ্যনির্ভর, নিশ্চিত আয়ের উপায় নয়।

৯. TapSwap Bot

বটের ধরন: ক্রিপ্টো (ট্যাপিং গেম)

কিভাবে কাজ করে:
TapSwap একটি জনপ্রিয় মাইনিং বা ট্যাপিং গেম। আপনাকে স্ক্রিনে ট্যাপ করে কয়েন সংগ্রহ করতে হবে। এখানে বিভিন্ন বুস্টার ব্যবহার করে আপনার ট্যাপিং ক্ষমতা এবং এনার্জি বাড়ানো যায়।

পরবর্তীতে এই কয়েনগুলো ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • আয়ের সম্ভাবনা: মাঝারি থেকে উচ্চ (ভবিষ্যতের উপর নির্ভরশীল)। যদি টোকেনটি বড় কোনো এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয়, তবে ভালো আয় হতে পারে।
  • সুবিধা/অসুবিধা: সহজ ও আকর্ষণীয়, বড় আয়ের সম্ভাবনা, তবে আয় নিশ্চিত নয় এবং সময় ও মনোযোগ প্রয়োজন।
  • নিরাপত্তা টিপস: প্রধান ওয়ালেট ব্যবহার না করে নতুন বা খালি ওয়ালেট ব্যবহার করুন।

১০. UNLIMITED world – CRYPTO Bot

বটের ধরন: মিক্সড (টাস্ক ও বিনিয়োগ)

কিভাবে কাজ করে:
এই বটে আপনি বিজ্ঞাপন দেখা, চ্যানেলে যোগ দেওয়া বা অন্যান্য কাজ করে ক্রিপ্টো আয় করতে পারেন। এছাড়াও, এখানে বিনিয়োগের কিছু প্ল্যান থাকতে পারে।

  • আয়ের সম্ভাবনা: কম থেকে মাঝারি। টাস্ক থেকে আয় কম, তবে বিনিয়োগে ঝুঁকি রয়েছে।
  • সুবিধা/অসুবিধা: আয়ের একাধিক উপায়, ইউজার-ফ্রেন্ডলি, কিন্তু বিনিয়োগে ঝুঁকি এবং টাস্ক আয় কম।
  • নিরাপত্তা টিপস: অবিশ্বাস্য রিটার্ন শুনলে সতর্ক থাকুন এবং বিনিয়োগের আগে যাচাই করুন।

১১. Tron Biz Bot

বটের ধরন: বিনিয়োগ (HYIP)

কিভাবে কাজ করে:
এটি একটি হাই-ইল্ড ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (HYIP) বট। এ

খানে আপনাকে ট্রন (TRX) বিনিয়োগ করতে বলা হয় এবং প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট শতাংশ রিটার্নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

  • আয়ের সম্ভাবনা: উচ্চ (অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ)। অল্প সময়ে উচ্চ রিটার্ন পেলেও, হঠাৎ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
  • সুবিধা/অসুবিধা: দ্রুত রিটার্নের সুযোগ থাকলেও, টাকা হারানোর ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি এবং এই বটগুলো প্রায়শই স্ক্যাম হয়।
  • নিরাপত্তা টিপস: এই ধরনের বটে কখনোই বিনিয়োগ করবেন না। নিরাপদে টেলিগ্রাম বট থেকে ইনকাম করতে এগুলো এড়িয়ে চলুন।

১২. HappyAds Bot

বটের ধরন: টাস্ক

কিভাবে কাজ করে:
HappyAds™ Bot বিজ্ঞাপন দেখার মাধ্যমে আয়ের সুযোগ দেয়।

আপনি বিজ্ঞাপন দেখে, সাইট ভিজিট করে বা অন্য চ্যানেলে যোগ দিয়ে রুবেল (RUB) আয় করতে পারেন।

  • আয়ের সম্ভাবনা: কম। প্রতিটি কাজের জন্য সামান্য অর্থ।
  • সুবিধা/অসুবিধা: কাজ সহজ ও দ্রুত, আয় খুব কম, Payeer ওয়ালেটে তোলা যায়। কাজ সীমিত হতে পারে।
  • নিরাপত্তা টিপস: সন্দেহজনক লিঙ্ক এড়িয়ে চলুন এবং ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখুন।

শেষ কথা

এগুলোই মূলত আমাদের তালিকায় থাকা সেরা বট। ইন্টারনেটে আরো হাজারো বট আছে।তবে এর মধ্যে ৬০-৭০ শতাংশ ভুয়া।

তাই উপদেশ থাকবে দেখে শুনে কাজ করবেন।এবং কাজে লেগে থাকলে যেকোনো ক্ষেত্র থেকেই ইনকাম করা সম্ভব।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *