Daraz থেকে ইনকাম করার কমপ্লিট গাইডলাইন: ২০২৬ এডিশন।

ই-কমার্স থেকে উপার্জন করতে চান! তাহলে বাংলাদেশি হিসেবে ডারাজ-ই আপনার প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। এফিলিয়েট মার্কেটিং, ড্রপশিপিং, হোলসেল, ইনফ্লুয়েন্সার প্রোগ্রাম সহ ডজনখানিক কার্যকরী উপায়ে Daraz থেকে ইনকাম করা যায়।

২০১২ সালে সদ্য প্রতিষ্ঠিত হওয়া ডারাজ ই-কমার্স সাইটটি বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ই-কমার্স সাইটগুলোর একটি।

প্রতিদিন গড়ে প্রায় দশ লক্ষ মানুষ ডারাজে ভিজিট করে। এটি একটি বিজনেস জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান।

এর সাথে জুড়িয়ে আছে লক্ষ লক্ষ মানুষের ফিন্যান্সিয়াল ডিপেন্ডেন্সি।ডারাজ ১১.১১ সেলে প্রথম এক ঘন্টায় পুরো পৃথিবীতে ১০ মিলিয়ন ডলার সেল দিয়েছে; যা রেকর্ড।

ডারাজে এতো এতো ইনকাম অপর্চুনিটি যেখানে পরিশ্রম করলেই সইজেই ভালো পরিমাণ অর্থ উপার্জন সম্ভব হয়।

২০২৪ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী ডারাজ থেকে ১২৭ মিলিয়ন ডলার রেভিনিউ অর্জন সম্ভব হয়েছে। রেভিনিউ অর্জনে ডারাজ দিচ্ছে আপনাকে অমূল্য সুযোগ।

জেনে নিই daraz থেকে ইনকামের সকল কার্যকরী উপায়ঃ

Table of Contents

১। প্রোডাক্ট সেল করে Daraz থেকে ইনকাম

ডারাজ থেকে ইনকাম করার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে নিজেই সেলার হওয়া।আপনার যদি কোনো প্রোডাক্ট স্টোর থাকে তাহলে সেটির সব প্রোডাক্ট আপনি ডারাজে বিক্রি করতে পারবেন।

এতে আপনি অনেক লাভবান হবেন এবং পুরো লাভের অংশ আপনার কাছেই থাকবে।

যেভাবে শুরু করবেন:

  • সেলার একাউন্ট তৈরি: daraz seller center এপ্লিকেশন গুগল প্লে স্টোর থেকে ইন্সটল করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হয়। ব্যাংক ডিটেইলস, এনআইডি কার্ড, বিজনেস ইনফরমেশন, ওয়্যারহাউজ লোকেশন, ফোন নাম্বার, ই-মেইল ইত্যাদি দিয়ে ভেরিভিকেশনের জন্যে অপেক্ষা করতে হয়।
  • প্রোডাক্ট লিস্টিং: ভেরিফাই সম্পন্ন হয়ে গেলে প্রোডাক্ট লিস্ট আপলোড করতে হয়। হাই কোয়ালিটি ইমেজ, প্রোডাক্টের নাম ডেসক্রিপশন ইত্যাদি আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করতে হয়। কম্পিটিটিভ প্রাইসিং ঠিক করতে হয় যেনো সেল বৃদ্ধি পায়।এজন্য ট্রেন্ডিং প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করতে হয়।
  • কাস্টোমার ইনগেজিং: কাস্টমারের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য এনগেজিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য কাস্টমার সাপোর্ট সবসময় রেডি রাখতে হয়। লাইভ চ্যাট, প্রশ্ন-উত্তর নিয়ে সবসময় লেগে থাকতে হয়।
  • প্রোডাক্ট ডেলিভারী: প্রোডাক্ট অর্ডার হওয়া শুরু হলে আপনি নিজেই ডেলিভারী দিতে পারবেন। অথবা Daraz Express ব্যবহার করে ডেলিভারী দিতে পারবেন।
  • প্রোডাক্ট পেজ অপটিমাইজেশন: সার্চ রেজাল্টের প্রথম পেজে আসা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য প্রোডাক্ট পেজের seo টাইটেল, ডেসক্রিপশন, ট্যাগ, প্রশ্ন উত্তর, ছবি খুবই সতর্কতার সাথে ম্যানেজ করতে হয়। ঠিকমতো প্রোডাক্ট রিসার্চ না করে প্রোডাক্ট পেজ সাজালে প্রথম পেজে র‍্যাংকও করবে না সেলও আসবে না।

লাভবান হওয়ার জন্য কিছু টিপস:

  • দুর্দান্ত কাস্টমার সাপোর্ট: কাস্টমারের সাথে নিউমিত কথা বলতে হয়। তাদের সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। যেকোনো প্রোডাক্ট ফেরত, মানি রিফান্ড ইত্যাদি বিষয়গুলোতে নরম হতে হয়।
  • প্রোডাক্ট কোয়ালিটি: প্রোডাক্টের কোয়ালিটি নিয়মিত ধরে রাখতে হয়।কাস্টমারের কাছে খারাপ প্রোডাক্ট চলে গেলে খারাপ রিভিউ আসবে। সেল ও কমে যেতে পারে।
  • ডারাজ প্রোমোশনে অংশ নেওয়া: ডারাজ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রোমোশন আয়োজন করে। ডারাজ ১১.১১ ১২.১২ ইত্যাদি। এগুলোতে জয়েন করা।
  • কোর্সে অংশগ্রহণ: বিভিন্ন সময় ডারাজ তার সেলারদের প্রোডাক্ট সেলিং অনলাইন বা অফলাইন কোর্স অফার করে থাকে। এগুলোতে অংশগ্রহণ করলে অনেক কিছু শিখা যায় বিজনেস সম্পর্কে।

২। ডারাজ অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম

ডারাজ এফিলিয়েট প্রোগ্রাম

আপনি কি ঘরে বসে অনলাইনে আয় করার একটি বিশ্বস্ত উপায় খুঁজছেন?

যদি আপনার একটি ওয়েবসাইট, ব্লগ বা সোশ্যাল মিডিয়া পেজ থাকে, তবে ডারাজ অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম হতে পারে আপনার জন্য আয়ের এক দারুণ সুযোগ।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ডারাজ এখন দিচ্ছে তাদের পণ্যের প্রচার করে কমিশন জেতার সুযোগ। চলুন জেনে নিই বিস্তারিত।

ডারাজ অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম কী?

সহজ কথায়, ডারাজ অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম হলো ডারাজের একটি পার্টনারশিপ মডেল।

এখানে আপনি ডারাজের লাখ লাখ পণ্যের মধ্য থেকে আপনার পছন্দমতো পণ্য বেছে নিয়ে সেগুলোর লিংক আপনার সোশ্যাল মিডিয়া বা ওয়েবসাইটে শেয়ার করবেন।

যখন কেউ আপনার শেয়ার করা লিংকে ক্লিক করে কোনো পণ্য কিনবে, তখন আপনি সেই বিক্রয়ের ওপর একটি নির্দিষ্ট হারে কমিশন পাবেন।

এটি মূলত অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং-এর একটি অংশ, যা বর্তমানে অনলাইন ইনকাম বা প্যাসিভ ইনকামের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম।

কেন যুক্ত হবেন এই প্রোগ্রামে?

ডারাজ বাংলাদেশ বর্তমানে দেশের ই-কমার্স জগতের শীর্ষে অবস্থান করছে। তাই তাদের অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে যুক্ত হওয়ার বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে:

  • বড় মার্কেটপ্লেস: ডারাজে ইলেকট্রনিক্স থেকে শুরু করে ফ্যাশন, গ্রোসারি—সব ধরনের পণ্য পাওয়া যায়। তাই প্রচারের জন্য পণ্যের অভাব হবে না।
  • উচ্চ কমিশন রেট: পণ্যের ক্যাটাগরি ভেদে আপনি আকর্ষণীয় হারে কমিশন পেতে পারেন।
  • সহজ রেজিস্ট্রেশন: কোনো ফি ছাড়াই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন করা যায়।
  • বিশ্বস্ত পেমেন্ট সিস্টেম: আপনার উপার্জিত অর্থ ব্যাংক ট্রান্সফার বা অন্যান্য মাধ্যমের সাহায্যে সহজেই হাতে পেতে পারেন।

কীভাবে জয়েন করবেন?

ডারাজ অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে যুক্ত হওয়া খুবই সহজ। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:

  1. প্রথমে ডারাজ অ্যাফিলিয়েট সাইন-আপ পেজে যান।
  2. আপনার নাম, ইমেইল, ফোন নম্বর এবং আপনার ট্রাফিক সোর্স (যেমন- ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল বা ওয়েবসাইটের লিংক) দিয়ে ফর্মটি পূরণ করুন।
  3. ডারাজ টিম আপনার আবেদন যাচাই করবে। সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যেই অ্যাপ্রুভাল মেইল চলে আসে।
  4. অনুমোদন পাওয়ার পর ড্যাশবোর্ডে লগইন করে পণ্যের লিংক জেনারেট করুন এবং শেয়ার করা শুরু করুন।

সফল হওয়ার কিছু টিপস

শুধুমাত্র লিংক শেয়ার করলেই আয় হবে না, এর জন্য প্রয়োজন সঠিক কৌশল। সফল হতে হলে এই বিষয়গুলো খেয়াল রাখুন:

সঠিক পণ্য নির্বাচন: আপনার অডিয়েন্স বা ফলোয়াররা কী ধরনের পণ্য পছন্দ করে তা বুঝুন। যেমন, আপনার যদি টেক চ্যানেল হয় তবে গ্যাজেট বা মোবাইল এক্সেসরিজ প্রমোট করুন।

আকর্ষণীয় কন্টেন্ট তৈরি: শুধু লিংক না দিয়ে পণ্যটি কেন ভালো, তার সুবিধা কী—এসব নিয়ে রিভিউ লিখুন বা ভিডিও তৈরি করুন।

অফার ও ডিসকাউন্ট প্রচার: ডারাজের বিভিন্ন ক্যাম্পেইন (যেমন- ১১.১১ বা ফাল্গুনী সেল) চলাকালীন সময়ে বেশি করে প্রচার করুন, কারণ তখন মানুষ বেশি কেনাকাটা করে।

৩।ডারাজ ডি-ফোর্স

Daraz theke incom

দারাজ ডি ফোর্স (Daraz D Force) হলো দারাজের একটি বিশেষায়িত সেলস প্রোগ্রাম। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, এটি দারাজের একটি এজেন্ট বা প্রতিনিধি দল।

এই প্রোগ্রামের আওতায় আপনি একজন ‘ডি ফোর্স’ এজেন্ট হিসেবে কাজ করবেন। আপনার কাজ হলো আপনার পরিচিত মানুষ, প্রতিবেশী বা যারা অনলাইনে কেনাকাটায় খুব একটা অভ্যস্ত নন, তাদের হয়ে পণ্য অর্ডার করে দেওয়া।

যখন আপনি আপনার ডি ফোর্স আইডি ব্যবহার করে অন্য কারো জন্য পণ্য অর্ডার করবেন, তখন প্রতিটি সফল ডেলিভারির জন্য আপনি নির্দিষ্ট হারে কমিশন পাবেন।

এটি মূলত অফলাইন এবং অনলাইন শপিংয়ের একটি সংযোগকারী সেতু হিসেবে কাজ করে।

ডি ফোর্স কীভাবে কাজ করে?

এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ এবং স্বচ্ছ। এখানে কোনো জটিল প্রযুক্তিগত জ্ঞানের প্রয়োজন নেই। প্রক্রিয়াটি সাধারণত নিচের ধাপগুলোতে সম্পন্ন হয়:

  • রেজিস্ট্রেশন: প্রথমে আপনাকে দারাজ ডি ফোর্স প্রোগ্রামে সাইন-আপ করতে হবে।
  • অর্ডার প্লেসমেন্ট: আপনার পরিচিত কেউ কিছু কিনতে চাইলে, আপনি আপনার ডি ফোর্স অ্যাপ বা প্যানেল থেকে তার জন্য অর্ডারটি করবেন।
  • ডেলিভারি ও পেমেন্ট: পণ্যটি গ্রাহকের কাছে পৌঁছে গেলে এবং তিনি পেমেন্ট করলে অর্ডারটি সফল হিসেবে গণ্য হবে।
  • কমিশন লাভ: সফল ডেলিভারির পর আপনার অ্যাকাউন্টে কমিশন জমা হবে।

দারাজ ডি ফোর্স বনাম দারাজ অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম

অনেকেই ডি ফোর্স এবং অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামকে এক মনে করে গুলিয়ে ফেলেন। যদিও দুটিরই মূল লক্ষ্য daraz থেকে ইনকাম নিশ্চিত করা, তবুও এদের কাজের ধরনে বেশ কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

নিচে একটি টেবিলের মাধ্যমে এই পার্থক্যগুলো তুলে ধরা হলো:

কেন দারাজ ডি ফোর্সে যোগ দেবেন?

বর্তমান সময়ে আয়ের একাধিক উৎস থাকা জরুরি। ডি ফোর্স আপনাকে সেই সুযোগটিই করে দিচ্ছে। এর প্রধান সুবিধাগুলো হলো:

  • বিনিয়োগহীন ব্যবসা: এখানে যোগ দিতে বা কাজ শুরু করতে কোনো টাকার প্রয়োজন নেই। শুধু একটি স্মার্টফোন থাকলেই চলে।
  • কাজের স্বাধীনতা: আপনি আপনার সুবিধামতো সময়ে কাজ করতে পারেন। কোনো ধরাবাঁধা অফিস টাইম নেই।
  • নেটওয়ার্কিং: এই কাজের মাধ্যমে আপনার পরিচিতি বাড়ে, যা ভবিষ্যতে অন্য পেশায়ও কাজে লাগতে পারে।
  • মাসিক ইনসেনটিভ: কমিশনের পাশাপাশি ভালো পারফর্মেন্সের জন্য দারাজ থেকে বিভিন্ন বোনাস বা ইনসেনটিভ পাওয়ার সুযোগ থাকে।

সফল ডি ফোর্স এজেন্ট হওয়ার টিপস

শুধু রেজিস্ট্রেশন করলেই হবে না, এখান থেকে ভালো আয় করতে হলে কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হবে:

১. পণ্য সম্পর্কে জানুন: বর্তমানে কোন পণ্যগুলোর চাহিদা বেশি বা কোনগুলোতে ভালো ডিসকাউন্ট চলছে, সে সম্পর্কে আপডেট থাকুন।
২. বিশ্বস্ততা অর্জন করুন: গ্রাহকের সঠিক পণ্যটি নিশ্চিত করুন। ভুল পণ্য বা খারাপ মানের পণ্য অর্ডার করলে আপনার ওপর মানুষের আস্থা কমে যাবে।
৩. অফার শেয়ার করুন: দারাজের বিভিন্ন ক্যাম্পেইন যেমন ১১.১১ বা ফাটাফাটি ফ্রাইডে চলাকালীন আপনার পরিচিতদের অফারগুলো জানান।

৪। ডারাজ ড্রপশিপিং বিজনেস

daraz থেকে ইনকাম

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে ই-কমার্স বা অনলাইন ব্যবসার প্রসার ঘটছে জ্যামিতিক হারে। অনেকেই এখন গতানুগতিক চাকরির বাইরে নিজের একটি স্বাধীন আয়ের উৎস তৈরি করতে চান।

আর এই ক্ষেত্রে daraz থেকে ইনকাম করার বিষয়টি বর্তমানে তরুণ উদ্যোক্তাদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যাদের হাতে বড় পুঁজি নেই, তারা ‘ড্রপশিপিং’ বা লো-ইনভেস্টমেন্ট মডেল ব্যবহার করে দারাজে ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

দারাজে ড্রপশিপিং বিষয়টি আসলে কী?

সাধারণ ড্রপশিপিংয়ে আপনার নিজের কোনো পণ্য থাকে না; আপনি শুধু অর্ডার নেন এবং সাপ্লায়ার সরাসরি কাস্টমারকে পণ্য পাঠিয়ে দেয়। তবে দারাজের ক্ষেত্রে বিষয়টি একটু ভিন্ন।

দারাজে ব্যবসা করতে হলে আপনাকে তাদের নিজস্ব প্যাকেজিং মেটেরিয়াল ব্যবহার করতে হয় এবং হাব-এ গিয়ে পণ্য ড্রপ করতে হয়।

তাই দারাজে ‘পিওর ড্রপশিপিং’ করা কঠিন হলেও, আপনি Just-in-Time (JIT) মডেল ফলো করতে পারেন। অর্থাৎ, আপনি আগে থেকে পণ্য স্টকে রাখবেন না।

যখন কাস্টমার অর্ডার করবে, তখন আপনি পাইকারি বাজার বা সাপ্লায়ারের কাছ থেকে পণ্যটি সংগ্রহ করে দারাজে শিপ করবেন। এভাবে বড় কোনো বিনিয়োগ ছাড়াই ইনকাম নিশ্চিত করা সম্ভব।

কেন এই মডেলটি নতুনদের জন্য সেরা?

  • কম ঝুঁকি: যেহেতু আপনাকে আগে থেকে লক্ষ টাকার পণ্য কিনে স্টক করতে হচ্ছে না, তাই পণ্য বিক্রি না হওয়ার ভয় থাকে না।
  • স্বল্প পুঁজি: মাত্র ২-৩ হাজার টাকা হাতে থাকলেই এই মডেলে কাজ শুরু করা যায়।
  • বিশাল মার্কেট: দারাজের কোটি কোটি কাস্টমারের কাছে পৌঁছানোর জন্য আপনাকে আলাদা করে ওয়েবসাইট বানাতে বা মার্কেটিং করতে হয় না।

ধাপে ধাপে ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া

দারাজে সফলভাবে ড্রপশিপিং বা রিসেলিং ব্যবসা দাঁড় করাতে হলে আপনাকে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে।

১. লাভজনক নিস (Niche) বা ক্যাটাগরি নির্বাচন

ইনকাম করার প্রথম শর্ত হলো সঠিক পণ্য বা ক্যাটাগরি বেছে নেওয়া। এমন পণ্য নির্বাচন করুন যা ওজনে হালকা, সহজে নষ্ট হয় না এবং যার চাহিদা প্রচুর।

উদাহরণ: মোবাইল এক্সেসরিজ (হেডফোন, কাভার), ছোট কিচেন গ্যাজেট, বা বিউটি প্রোডাক্ট। এই পণ্যগুলো সোর্সিং করা সহজ এবং ডেলিভারিতে ভাঙার ঝুঁকি কম থাকে।

২. বিশ্বস্ত সাপ্লায়ার বা সোর্স খুঁজে বের করা

আপনার সাফল্য নির্ভর করবে আপনি কত কম দামে ভালো মানের পণ্য কিনতে পারছেন তার ওপর। ঢাকার চকবাজার, সুন্দরবন স্কয়ার বা নবাবপুর মার্কেটে গিয়ে পাইকারি বিক্রেতাদের সাথে কথা বলুন।

তাদের সাথে সুসম্পর্ক তৈরি করুন যেন একটি বা দুটি পিস পণ্যও তারা আপনাকে পাইকারি দামে দেয়। যখনই আপনি দারাজে অর্ডার পাবেন, তাদের কাছ থেকে পণ্যটি সংগ্রহ করবেন।

৩. আকর্ষণীয় লিস্টিং ও এসইও

কাস্টমার আপনার পণ্যটি বাস্তবে দেখতে পাচ্ছে না, তাই ছবি এবং বিবরণই ভরসা।

  • উচ্চমানের ছবি: পণ্যের পরিষ্কার এবং উজ্জ্বল ছবি আপলোড করুন।
  • বিস্তারিত বিবরণ: পণ্যের সাইজ, কালার, মেটেরিয়াল এবং ব্যবহারের নিয়ম সুন্দর করে বাংলায় অথবা ইংরেজিতে লিখুন।
  • কিওয়ার্ড: টাইটেল এবং ডেসক্রিপশনে পণ্যের মূল কিওয়ার্ডগুলো ব্যবহার করুন, যাতে সার্চ করলেই আপনার পণ্য সামনে আসে।

৪. সঠিক প্রাইসিং বা দাম নির্ধারণ

পণ্যের দাম নির্ধারণ করার সময় দারাজের কমিশন, প্যাকেজিং খরচ এবং আপনার যাতায়াত খরচ হিসাব করতে ভুলবেন না।

অন্য সেলাররা কত দামে বিক্রি করছে তা যাচাই করুন এবং প্রতিযোগিতামূলক দাম রাখার চেষ্টা করুন।

ড্রপশিপিং থেকে ইনকাম বাড়ানোর কার্যকরী টিপস

শুধুমাত্র পণ্য আপলোড করলেই বিক্রি শুরু হবে না। বিক্রি বাড়াতে নিচের কৌশলগুলো প্রয়োগ করুন:

  • বান্ডেল অফার: একটি পণ্যের সাথে আরেকটি পণ্য মিলিয়ে ‘কম্বো অফার’ তৈরি করুন। যেমন—একটি ফেসওয়াশের সাথে একটি ময়েশ্চারাইজার। এতে কাস্টমার বেশি লাভ মনে করে অর্ডার করেন।
  • ফ্রি শিপিং: নির্দিষ্ট টাকার বেশি কেনাকাটায় ফ্রি শিপিং অফার করুন। এটি কাস্টমারদের আকর্ষণ করার অন্যতম সেরা উপায়।
  • দ্রুত শিপিং: অর্ডার পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য শিপ করার চেষ্টা করুন। এতে আপনার শপের রেটিং বাড়বে এবং কাস্টমার ট্রাস্ট তৈরি হবে।

চ্যালেঞ্জ এবং সমাধান

এই ব্যবসায় কিছু চ্যালেঞ্জও আছে। যেমন, মাঝে মাঝে কাস্টমার পণ্য রিসিভ না করে ফেরত দিতে পারে (Return)। এতে আপনার শিপিং চার্জ লস হতে পারে। এই সমস্যা কমাতে পণ্যের বিবরণ খুব স্পষ্টভাবে লিখুন এবং কাস্টমার অর্ডার করার পর চ্যাটিং অপশনে গিয়ে অর্ডারটি কনফার্ম করে নিন।

৫। ডারাজ ইনফ্লুয়েন্সার প্রোগ্রাম

Daraz Influencer Programme

আপনার সোশ্যাল মিডিয়া বা ব্লগ সাইটে কি প্রচুর ফলোয়ার আছে?

আপনি কি কন্টেন্ট তৈরি করে নিজের প্যাশনকে পেশায় রূপান্তর করতে চান? যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে ডারাজ ইনফ্লুয়েন্সার প্রোগ্রাম আপনার জন্যই অপেক্ষা করছে।

বাংলাদেশে অনলাইন কেনাকাটার সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম ডারাজ এখন ইনফ্লুয়েন্সার এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য নিয়ে এসেছে আয়ের এক চমৎকার সুযোগ।

আসুন জেনে নেওয়া যাক, এই প্রোগ্রামটি আসলে কী এবং কীভাবে আপনি এর মাধ্যমে অনলাইন ইনকাম নিশ্চিত করতে পারেন।

ডারাজ ইনফ্লুয়েন্সার প্রোগ্রাম কী?

সহজ কথায়, এটি ডারাজের একটি বিশেষ মার্কেটিং উদ্যোগ যেখানে আপনি ডারাজের পণ্য প্রচার করে আয় করতে পারেন।

একে অনেকে ডারাজ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হিসেবেও চেনেন। এই প্রোগ্রামের আওতায় আপনি আপনার পছন্দের পণ্যের লিংক বা প্রমো কোড আপনার সোশ্যাল মিডিয়া বা ওয়েবসাইটে শেয়ার করবেন।

যখনই কোনো ক্রেতা আপনার শেয়ার করা লিংকে ক্লিক করে পণ্য কিনবেন, আপনি নির্দিষ্ট হারে কমিশন পাবেন।

কেন যুক্ত হবেন এই প্রোগ্রামে?

বর্তমান ডিজিটাল যুগে ইনফ্লুয়েন্সারদের জন্য আয়ের অনেক পথ থাকলেও ডারাজের এই প্রোগ্রামটি বেশ কিছু কারণে সেরা।

  • সহজ রেজিস্ট্রেশন: কোনো জটিল প্রক্রিয়া ছাড়াই খুব সহজে আপনি এই প্রোগ্রামে যুক্ত হতে পারেন।
  • বিশ্বাসযোগ্য প্ল্যাটফর্ম: ডারাজ দেশের ১ নম্বর ই-কমার্স সাইট, তাই পেমেন্ট বা স্বচ্ছতা নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই।
  • বিপুল পণ্যের সমাহার: আপনি যে ক্যাটাগরির কন্টেন্টই তৈরি করুন না কেন (যেমন- টেক, ফ্যাশন, বিউটি বা লাইফস্টাইল), প্রচারের জন্য হাজারও পণ্য এখানে পাবেন।
  • আকর্ষণীয় কমিশন: প্রতিটি সফল বিক্রয়ের ওপর আপনি আকর্ষণীয় কমিশন পাবেন, যা মাস শেষে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে।

ডারাজ ইনফ্লুয়েন্সার প্রোগ্রাম কীভাবে কাজ করে?

এই প্রোগ্রামে কাজ করার প্রক্রিয়াটি খুবই সরল। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করলেই আপনি কাজ শুরু করতে পারবেন:

  • সাইন আপ: প্রথমে ডারাজ অ্যাফিলিয়েট পোর্টালে গিয়ে সাইন আপ করুন।
  • পণ্য নির্বাচন: আপনার অডিয়েন্সের পছন্দ অনুযায়ী পণ্য বা ক্যাম্পেইন বেছে নিন।
  • লিংক শেয়ার: আপনার ইউনিক অ্যাফিলিয়েট লিংক তৈরি করুন এবং ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম বা ব্লগে শেয়ার করুন।
  • আয় শুরু: আপনার লিংক থেকে কেনাকাটা হলেই আপনার অ্যাকাউন্টে কমিশন জমা হতে থাকবে।

কারা যোগ দিতে পারবেন?

আপনার যদি একটি সক্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল বা ওয়েবসাইট থাকে এবং সেখানে নিয়মিত এনগেজমেন্ট হয়, তবেই আপনি এই প্রোগ্রামের জন্য উপযুক্ত।

বড় তারকা হতে হবে এমন কোনো কথা নেই; ন্যানো বা মাইক্রো ইনফ্লুয়েন্সাররাও এখান থেকে ভালো আয় করছেন।

সফলতা পাওয়ার টিপস

  • নিয়মিত ও মানসম্পন্ন কনটেন্ট তৈরি করুন: আপনার অডিয়েন্সের চাহিদা অনুযায়ী নিয়মিত ভাবে আকর্ষণীয় কনটেন্ট শেয়ার করুন।
  • বিশ্বস্ততা বজায় রাখুন: ডারাজের পণ্য সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিন এবং নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরুন, যাতে ফলোয়াদের আস্থা বাড়ে।
  • সঠিক পণ্য নির্বাচন করুন: আপনার নিচ বা অডিয়েন্সের ইন্টারেস্ট অনুযায়ী পণ্য বেছে নিন, এতে কনভার্সনের সম্ভাবনা বাড়ে।
  • সোশ্যাল মিডিয়াতে সক্রিয় থাকুন: ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব বা ব্লগ—যেখানে বেশি এনগেজমেন্ট পান, সেখানে লিংক বেশি করে শেয়ার করুন।
  • রেজাল্ট অ্যানালাইসিস করুন: কোন কনটেন্ট/পণ্য থেকে বেশি আয় হচ্ছে তা বিশ্লেষণ করে, ভবিষ্যতে সেই অনুযায়ী কনটেন্ট পরিকল্পনা করুন।
  • ইনফ্লুয়েন্সার কমিউনিটিতে যুক্ত থাকুন: অন্য ইনফ্লুয়েন্সারদের সাথে যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করলে নতুন আইডিয়া ও সুযোগ পেতে পারেন।

তাই আর দেরি না করে আজই যুক্ত হোন এবং আপনার ইনফ্লুয়েন্সার যাত্রাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান।

৬। ডারাজ সার্ভিস সেলিং

daraz course sell

অনেকেই মনে করেন দারাজ শুধু দৃশ্যমান পণ্য, যেমন— পোশাক, গ্যাজেট বা গৃহস্থালি সামগ্রী বিক্রির প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু এই ধারণাটি পুরোপুরি সঠিক নয়।

দারাজ এখন ডিজিটাল পণ্য বা সার্ভিস বিক্রির সুযোগও তৈরি করেছে, যা অনেকের জন্য আয়ের একটি নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে।

আপনি যদি কোনো বিষয়ে দক্ষ হন, যেমন— কোনো কোর্স শেখানো, ডিজাইন, বা পরামর্শ প্রদান, তবে দারাজে সার্ভিস বিক্রি করে সহজেই আয় করতে পারেন।

দারাজে কী ধরনের সার্ভিস বিক্রি করা যায়?

সাধারণত, দারাজ ডিজিটাল পণ্য বা সার্ভিস বিক্রির জন্য একটি উপযুক্ত মাধ্যম হয়ে উঠছে। এখানে আপনি বিভিন্ন ধরনের সেবা বিক্রি করতে পারেন, যার মধ্যে অন্যতম হলো অনলাইন কোর্স।

অনলাইন কোর্স

যদি কোনো বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হন, যেমন— ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ফ্রিল্যান্সিং, ভাষা শিক্ষা বা অ্যাকাডেমিক কোনো বিষয়, তাহলে সেই বিষয়ের ওপর ভিডিও কোর্স তৈরি করে দারাজে বিক্রি করতে পারেন।

এটি daraz থেকে ইনকাম করার একটি চমৎকার ও আধুনিক উপায়।

ই-বুক

আপনার লেখা কোনো বই বা গাইডলাইন পিডিএফ আকারে ই-বুক হিসেবে বিক্রি করতে পারেন।

ডিজিটাল টেমপ্লেট

গ্রাফিক ডিজাইনাররা বিভিন্ন ধরনের টেমপ্লেট, যেমন— সিভি, প্রেজেন্টেশন স্লাইড, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ডিজাইন ইত্যাদি বিক্রি করতে পারেন।

কনসালটেন্সি বা পরামর্শ সেবা

daraz course

নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ক্যারিয়ার পরামর্শ, ব্যবসায়িক পরামর্শ বা আইনি পরামর্শের মতো সেবাও প্যাকেজ আকারে বিক্রি করা সম্ভব।

কীভাবে দারাজে সার্ভিস বিক্রি শুরু করবেন?

দারাজে সার্ভিস বিক্রি করার প্রক্রিয়াটি পণ্য বিক্রির মতোই, তবে কিছু ধাপ ভিন্ন।

১. সেলার অ্যাকাউন্ট তৈরি: প্রথমে আপনাকে দারাজে একজন বিক্রেতা হিসেবে নিবন্ধন করতে হবে। এর জন্য আপনার প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক তথ্য ও ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে।

২. সার্ভিসকে পণ্যের মতো তালিকাভুক্ত করা: যেহেতু দারাজ মূলত পণ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম, তাই আপনাকে আপনার সার্ভিসটিকে একটি “ডিজিটাল গুড” বা “ভার্চুয়াল পণ্য” হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে হবে।

উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি একটি অনলাইন কোর্স বিক্রি করতে চান, তবে সেটির একটি আকর্ষণীয় থাম্বনেইল বা কভার ইমেজ তৈরি করতে হবে।

পণ্যের বিবরণে কোর্সের মডিউল, মেয়াদ, কী কী শেখানো হবে, এবং কোর্সটি কাদের জন্য উপযোগী, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

৩. ডেলিভারি প্রক্রিয়া: গ্রাহক যখন আপনার সার্ভিসটি কিনবেন, তখন তাকে সেবাটি পৌঁছে দিতে হবে। অনলাইন কোর্সের ক্ষেত্রে, আপনি গ্রাহককে একটি প্রাইভেট গুগল ড্রাইভ লিংক, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ বা অন্য কোনো প্রাইভেট প্ল্যাটফর্মের অ্যাক্সেস লিংক পাঠাতে পারেন।

অর্ডারের পর গ্রাহকের সাথে যোগাযোগ করে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে daraz থেকে ইনকাম করা বেশ সুবিধাজনক হয়।

সফলভাবে সার্ভিস বিক্রির জন্য কিছু টিপস

  • দ্রুত সেবা প্রদান: গ্রাহক অর্ডার করার পর যত দ্রুত সম্ভব তার কাছে সার্ভিসটি পৌঁছে দিন এবং ভালো গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করুন।
  • মার্কেটিং: দারাজের পাশাপাশি আপনার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া বা ওয়েবসাইটেও সার্ভিসের প্রচার করুন। এতে আপনার বিক্রি বাড়ার সম্ভাবনা বাড়বে।

সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে দারাজকে ব্যবহার করে আপনি আপনার দক্ষতা ও জ্ঞানকে আয়ের উৎসে পরিণত করতে পারেন।

৭। ডারাজে হোলসেল বা পাইকারী পণ্য বিক্রি

daraz whole sell market

অনেকেই এখন গতানুগতিক ব্যবসার বাইরে এসে অনলাইনে নিজের ভাগ্য গড়তে চাইছেন। যদি আপনার পরিকল্পনা থাকে বড় পরিসরে পণ্য কেনাবেচা করার, তবে ডারাজের হোলসেল বা পাইকারি ব্যবসায় নাম লেখাতে পারেন।

ডারাজে হোলসেল ব্যবসা কেন করবেন?

সাধারণ সেলার হিসেবে একটি-দুটি পণ্য বিক্রি করার চেয়ে হোলসেল বা পাইকারি হিসেবে পণ্য বিক্রি করার সুবিধা অনেক বেশি। এখানে একসাথে বড় লটে পণ্য বিক্রি হয়, ফলে লাভের অংকটা চোখে পড়ার মতো হয়।

  • বড় কাস্টমার বেস: ডারাজের লাখ লাখ গ্রাহক রয়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা খুচরা বিক্রেতা বা ছোট ব্যবসায়ী এবং তারা সস্তায় পাইকারি পণ্য খোঁজেন।
  • কম মার্কেটিং খরচ: আপনাকে আলাদা করে মার্কেটিং বা প্রচারণার পেছনে খুব বেশি খরচ করতে হয় না, কারণ ডারাজ নিজেই তাদের প্ল্যাটফর্মের মার্কেটিং করে থাকে।
  • নিরাপদ পেমেন্ট: পেমেন্ট নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই। ডারাজের সেলার পলিসি এবং পেমেন্ট সিস্টেম খুবই স্বচ্ছ ও নিরাপদ।

কীভাবে ডারাজে শুরু করবেন পাইকারি ব্যবসা?

ডারাজে হোলসেল ব্যবসা শুরু করার প্রক্রিয়াটি বেশ সোজা, তবে এর জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট ধাপ অনুসরণ করতে হয়।

১. সেলার হওয়া

প্রথমে আপনাকে ডারাজ সেলার সেন্টারে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

সাইন-আপ করার সময় আপনার ব্যবসায়িক তথ্য, যেমন ট্রেড লাইসেন্স, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ এবং জাতীয় পরিচয়পত্র প্রয়োজন হবে। হোলসেল ব্যবসার জন্য আপনার কাছে পর্যাপ্ত স্টক থাকা জরুরি।

২. সঠিক পণ্য নির্বাচন

সব পণ্য পাইকারিতে ভালো চলে না। ইলেকট্রনিক্স এক্সেসরিজ, ফ্যাশন আইটেম, এবং হোম অ্যাপ্লায়েন্সেস ক্যাটাগরিতে পাইকারি পণ্যের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বাজার যাচাই করে এমন পণ্য বেছে নিন যার চাহিদা সারা বছর থাকে।

৩. আকর্ষণীয় প্রাইসিং

পাইকারি ব্যবসার মূল মন্ত্র হলো কম লাভে বেশি বিক্রি। আপনার পণ্যের দাম এমনভাবে নির্ধারণ করুন যেন খুচরা বিক্রেতারা আপনার কাছ থেকে কিনে লাভ করতে পারে।

দাম খুব বেশি হলে বায়াররা আপনার প্রতি আগ্রহী হবে না।

৪. প্রফেশনাল ক্যাটালগ তৈরি

পণ্যের ছবি এবং বিবরণ হতে হবে একদম স্বচ্ছ। যেহেতু বায়ার পণ্যটি হাতে ধরে দেখতে পারছে না, তাই হাই-কোয়ালিটি ছবি এবং বিস্তারিত বিবরণ তাদের আস্থা অর্জন করতে সাহায্য করবে।

উল্লেখ করতে হবে মিনিমাম কত পিস অর্ডার করলে হোলসেল রেট পাওয়া যাবে।

৮। প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি

daraz থেকে ইনকাম

ই-কমার্সের এই যুগে একটি ভালো ছবি হাজার শব্দের চেয়েও বেশি শক্তিশালী। বিশেষ করে দারাজের মতো বড় প্ল্যাটফর্মে সেলার হিসেবে সফল হতে চাইলে প্রডাক্ট ফটোগ্রাফির গুরুত্ব অপরিসীম।

ক্রেতারা পণ্য সরাসরি হাতে নিয়ে দেখতে পারেন না, তাই তারা ছবির ওপর ভিত্তি করেই কেনাকাটার সিদ্ধান্ত নেন।

আকর্ষণীয় ছবির গুরুত্ব

আপনার পণ্যের ছবি যত পরিষ্কার এবং আকর্ষণীয় হবে, ক্রেতার আস্থা তত বাড়বে। ঝাপসা বা কম আলোর ছবি ক্রেতাকে দ্বিধায় ফেলে দেয়।

অন্যদিকে, ভালো এঙ্গেল এবং সঠিক লাইটিংয়ে তোলা ছবি পণ্যের গুণমান ফুটিয়ে তোলে। এতে ক্লিক রেট বাড়ে এবং বিক্রির সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়।

এটা যেভাবে কাজ করে

আপনাকে প্রথমে সেলারদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে ।কারণ সব সেলারে ভালো ফটোগ্রাফি পারে না।তারা ফটোগ্রাফার হায়ার করে।আপনি টাকার বিনিময়ে তাদের কাছে ফটোগ্রাফি সার্ভিস বিক্রি করবেন ।

ফটোগ্রাফি সার্ভিস অনেকটা এসইও সার্ভিস এর অংশ। যত ভালো আপনি ডিজাইন করবেন সার্চ রেজাল্টে আপনার পণ্য তত উপরে দিকে উঠবে।

৯। ডারাজ সাপোর্ট সেন্টারে চাকরী

ডারাজ সাপোর্ট সেন্টার

সাপোর্ট সেন্টারে কাজ করে আপনি শুধুমাত্র গ্রাহকদের সাহায্যই করবেন না, বরং একটি নির্ভরযোগ্য উপায়ে daraz থেকে ইনকাম করার সুযোগও পাবেন। চলুন, দারাজ সাপোর্ট সেন্টারে চাকরির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

দারাজ সাপোর্ট সেন্টারে কাজের ধরণ

দারাজ সাপোর্ট সেন্টারের মূল কাজ হলো গ্রাহকদের বিভিন্ন প্রশ্ন, অভিযোগ এবং সমস্যার সমাধান করা। এখানে কাজ করলে আপনাকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে।

গ্রাহকের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া

গ্রাহকরা পণ্য, ডেলিভারি, পেমেন্ট, বা অফার সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন করতে পারেন। সাপোর্ট সেন্টারের কর্মী হিসেবে আপনাকে ধৈর্য ধরে তাদের সকল প্রশ্নের সঠিক ও পরিষ্কার উত্তর দিতে হবে।

অভিযোগ সমাধান করা

ভুল পণ্য ডেলিভারি, পণ্যের মান নিয়ে অসন্তুষ্টি, অথবা রিফান্ড সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ আসতে পারে। এই অভিযোগগুলো গ্রহণ করে যথাযথ পদক্ষেপের মাধ্যমে গ্রাহকের সমস্যার সমাধান করাই আপনার দায়িত্ব।

প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান

অনেক সময় গ্রাহকরা ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ব্যবহারে সমস্যায় পড়তে পারেন। যেমন—অর্ডার করতে না পারা, পেমেন্ট সম্পন্ন না হওয়া ইত্যাদি। এক্ষেত্রে আপনাকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে তাদের সাহায্য করতে হবে।

কেন দারাজ সাপোর্ট সেন্টারে চাকরি করবেন?

দারাজের মতো একটি বড় প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অনেক সুবিধা রয়েছে। এটি কেবল একটি চাকরি নয়, বরং ক্যারিয়ার গড়ার একটি সম্ভাবনাময় প্ল্যাটফর্ম।

পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি

এখানে কাজ করার মাধ্যমে আপনার যোগাযোগ দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং ধৈর্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। কর্পোরেট জগতের জন্য এই দক্ষতাগুলো অত্যন্ত মূল্যবান।

স্থিতিশীল আয়ের সুযোগ

দারাজ তার কর্মীদের একটি প্রতিযোগিতামূলক বেতন কাঠামো অফার করে।

এখানে কাজ করে আপনি একটি স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য আয়ের উৎস নিশ্চিত করতে পারেন, যা আপনাকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করবে।

ক্যারিয়ার অগ্রগতির সম্ভাবনা

দারাজ একটি ক্রমবর্ধমান প্রতিষ্ঠান। সাপোর্ট সেন্টারে ভালো পারফর্ম্যান্স দেখাতে পারলে আপনার জন্য পদোন্নতির সুযোগ তৈরি হবে।

আপনি টিম লিডার, ম্যানেজার বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে উন্নীত হতে পারেন।

উন্নত কর্মপরিবেশ

দারাজ কর্মীদের জন্য একটি পেশাদার এবং সহযোগিতামূলক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করে।

এখানে আপনি একটি দলের অংশ হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন এবং সহকর্মীদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবেন।

চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা

দারাজ সাপোর্ট সেন্টারে চাকরি পেতে হলে কিছু সাধারণ যোগ্যতা থাকা আবশ্যক। প্রতিষ্ঠানটি সাধারণত নিচের বিষয়গুলোর উপর গুরুত্ব দেয়:

  • শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাধারণত প্রার্থীকে ন্যূনতম স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রিধারী হতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ প্রার্থীদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করা হতে পারে।
  • যোগাযোগ দক্ষতা: বাংলায় স্পষ্টভাবে কথা বলা এবং লেখার দক্ষতা থাকা আবশ্যক। ইংরেজি জানা থাকলে তা অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে।
  • কম্পিউটার জ্ঞান: কম্পিউটার পরিচালনা এবং টাইপিংয়ে ভালো গতি থাকা প্রয়োজন। মাইক্রোসফট অফিস অ্যাপ্লিকেশন, বিশেষ করে এক্সেল ও ওয়ার্ড ব্যবহারে পারদর্শী হতে হবে।
  • ধৈর্য ও গ্রাহকসেবার মানসিকতা: গ্রাহকদের সাথে শান্তভাবে এবং শিষষ্টাচারপূর্ণ আচরণ করার মানসিকতা থাকতে হবে। যেকোনো পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরে সমস্যার সমাধান করার ক্ষমতা একটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ।

আবেদন প্রক্রিয়া: ধাপে ধাপে নির্দেশিকা

দারাজ সাপোর্ট সেন্টারে চাকরির জন্য আবেদন করা বেশ সহজ। আপনি কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করে সহজেই আবেদন করতে পারেন।

১. ক্যারিয়ার ওয়েবসাইট ভিজিট করুন: প্রথমত, দারাজের অফিসিয়াল ক্যারিয়ার পোর্টাল ভিজিট করুন। বিভিন্ন জব পোর্টালেও অনেক সময় দারাজের চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়।

২. সাপোর্ট সেন্টার বা কাস্টমার সার্ভিস পদ খুঁজুন: ক্যারিয়ার সাইটে গিয়ে “Customer Service” বা “Support Center” সম্পর্কিত পদগুলো খুঁজে বের করুন।

৩. চাকরির বিবরণ পড়ুন: বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত দায়িত্ব ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতাগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। যদি আপনার প্রোফাইলের সাথে মিলে যায়, তবে আবেদন করার জন্য প্রস্তুতি নিন।

৪. অনলাইনে আবেদন করুন: “Apply Now” বাটনে ক্লিক করে আবেদন ফর্মটি পূরণ করুন। আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতার বিবরণ নির্ভুলভাবে লিখুন।

৫. আপনার সিভি আপলোড করুন: একটি আপডেট করা এবং পেশাদার সিভি তৈরি করুন। আপনার দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতাগুলো সিভিতে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করুন এবং সেটি আপলোড করুন।

আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দারাজের মানবসম্পদ বিভাগ আপনার আবেদনটি পর্যালোচনা করবে। আপনি নির্বাচিত হলে লিখিত পরীক্ষা বা সাক্ষাৎকারের জন্য আপনার সাথে যোগাযোগ করা হবে।

১০। ডারাজে ডেলিভারি সার্ভিস

Daraz delivery job

ডারাজের ডেলিভারি পার্টনার হিসেবে কাজ করার বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে। প্রথমত, এটি একটি ফ্লেক্সিবল বা নমনীয় কাজের সুযোগ।

আপনি আপনার সুবিধামতো সময়ে কাজ করতে পারেন। যারা পড়াশোনা বা অন্য কোনো কাজের পাশাপাশি বাড়তি আয় করতে চান, তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ উপায়।

দ্বিতীয়ত, আপনার নিজের মোটরবাইক বা সাইকেল ব্যবহার করে কাজ শুরু করতে পারেন, ফলে বড় কোনো বিনিয়োগের প্রয়োজন হয় না।

এছাড়া, ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আকর্ষণীয় ইনসেনটিভ এবং বোনাস পাওয়ার সুযোগ তো থাকছেই।

ডেলিভারি পার্টনার হিসেবে কী কাজ করতে হয়?

একজন ডারাজ ডেলিভারি পার্টনারের মূল কাজ হলো ডারাজের হাব বা ওয়্যারহাউস থেকে পণ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট ঠিকানায় গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া। এই প্রক্রিয়ায় কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হয়:

  • পণ্য সংগ্রহ: প্রতিদিন সকালে আপনাকে নির্দিষ্ট হাব থেকে আপনার এলাকার জন্য নির্ধারিত প্যাকেজগুলো সংগ্রহ করতে হবে।
  • রুট পরিকল্পনা: ডেলিভারির জন্য পাওয়া প্যাকেজগুলোর ঠিকানা অনুযায়ী একটি কার্যকর রুট প্ল্যান তৈরি করতে হয়, যাতে কম সময়ে এবং কম খরচে বেশি পণ্য ডেলিভারি করা যায়।
  • পণ্য ডেলিভারি: গ্রাহকের ঠিকানায় গিয়ে পণ্য বুঝিয়ে দেওয়া এবং পণ্যের মূল্য (ক্যাশ অন ডেলিভারির ক্ষেত্রে) সংগ্রহ করা।
  • হিসাব জমা দেওয়া: দিনের শেষে সংগৃহীত অর্থ এবং অবিক্রীত বা ফেরত আসা পণ্য হাবে জমা দেওয়া।

সঠিকভাবে এই কাজগুলো সম্পন্ন করার মাধ্যমে daraz থেকে ইনকাম করা সম্ভব।

আয়ের পরিমাণ কেমন হতে পারে?

ডারাজ ডেলিভারি পার্টনারদের আয় মূলত কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। যেমন, আপনি প্রতিদিন কতগুলো পণ্য ডেলিভারি করছেন, আপনার কাজের এলাকা কোনটি এবং আপনার পারফরম্যান্স কেমন।

সাধারণত, প্রতিটি সফল ডেলিভারির জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন দেওয়া হয়। এর সাথে যুক্ত হতে পারে বিভিন্ন ধরনের ইনসেনটিভ ও বোনাস।

যারা ফুল-টাইম কাজ করেন এবং প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পণ্য ডেলিভারি করতে পারেন, তারা মাস শেষে বেশ ভালো পরিমাণ অর্থ আয় করতে সক্ষম হন।

কীভাবে আবেদন করবেন?

ডারাজের ডেলিভারি পার্টনার হিসেবে যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়াটি বেশ সহজ। সাধারণত অনলাইনেই আবেদন করা যায়। আপনার যা যা প্রয়োজন হবে:

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)।
  • একটি সচল মোবাইল নম্বর এবং স্মার্টফোন।
  • নিজের মোটরবাইক বা সাইকেল (ক্ষেত্রবিশেষে)।
  • মোটরবাইকের ক্ষেত্রে বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং রেজিস্ট্রেশন পেপার।

আগ্রহী প্রার্থীরা ডারাজের অফিসিয়াল ক্যারিয়ার ওয়েবসাইটে নজর রাখতে পারেন অথবা সরাসরি নিকটস্থ ডারাজ হাবে যোগাযোগ করে আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন। সফলভাবে আবেদন প্রক্রিয়া শেষ করার পর একটি সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আপনাকে কাজের জন্য প্রস্তুত করে তোলা হবে।

প্রয়োজনীয় প্রশ্নোত্তর(FAQ)

১।দারাজ থেকে আয় করার উপায়গুলো কী কী?

দারাজ থেকে মূলত দুইভাবে আয় করা যায়। প্রথমত, আপনি একজন ‘সেলার’ বা বিক্রেতা হিসেবে নিজের পণ্য বিক্রি করতে পারেন।

দ্বিতীয়ত, আপনি দারাজের ‘এফিলিয়েট প্রোগ্রাম’-এ যোগ দিয়ে অন্যের পণ্য শেয়ার করে কমিশন আয় করতে পারেন।

.২।দারাজে বিক্রেতা বা সেলার হতে কি কোনো টাকা লাগে?

না, দারাজে সেলার অ্যাকাউন্ট খুলতে কোনো টাকা লাগে না। রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ফ্রি। তবে পণ্য বিক্রি হওয়ার পর দারাজ প্রতিটি পণ্যের ওপর নির্দিষ্ট হারে কমিশন কেটে নেয়।

৩।সেলার অ্যাকাউন্ট খুলতে কী কী কাগজপত্র লাগবে?

সাধারণত সেলার হিসেবে যোগ দিতে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট (অথবা মোবাইল ব্যাংকিং যেমন- বিকাশ বা রকেট, যা বর্তমানে দারাজ সমর্থন করে) এবং একটি ফোন নম্বরের প্রয়োজন হয়।

ব্যবসায়িক ট্রেড লাইসেন্স থাকলে ভালো, তবে ছোট বা নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সব সময় এটি বাধ্যতামূলক নয়।

৪।আমার কি নিজের কোনো দোকান বা শোরুম থাকতে হবে?

না, দারাজে ব্যবসা করার জন্য ফিজিক্যাল দোকান বা শোরুম থাকার কোনো প্রয়োজন নেই।

আপনি আপনার বাসা থেকেই পণ্য প্যাকেজিং করে দারাজের হাবে পৌঁছে দিতে পারেন অথবা পিক-আপ সার্ভিস ব্যবহার করতে পারেন।

৫।পণ্য বিক্রি হলে আমি টাকা কীভাবে পাবো?

আপনার বিক্রি হওয়া পণ্যের টাকা দারাজ নির্দিষ্ট সময় পর পর (সাধারণত মাসে দুইবার) আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেয়।

এফিলিয়েট আয়ের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট আয়ের সীমা পার হলে টাকা আপনার অ্যাকাউন্টে জমা হয়।

৬।নতুন সেলার হিসেবে কী কী চ্যালেঞ্জ আসতে পারে?

শুরুতে অর্ডার কম আসা খুব স্বাভাবিক। এছাড়া অনেক সময় ক্রেতারা পণ্য ফেরত (Return) দিতে পারেন, যা সেলারদের জন্য একটু হতাশার হতে পারে।

প্যাকেজিং মেটেরিয়াল সংগ্রহ করা এবং সঠিক সময়ে হাবে পণ্য পৌঁছানোও শুরুতে একটু কঠিন মনে হতে পারে। তবে ধৈর্য ধরে কাজ করলে এই সমস্যাগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

৭।আমি কি সব ধরনের পণ্য বিক্রি করতে পারবো?

না, দারাজে নিষিদ্ধ বা অবৈধ কোনো পণ্য বিক্রি করা যায় না। এছাড়া কিছু বিশেষ ক্যাটাগরির পণ্যের জন্য আলাদা অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে।

দারাজের সেলার পলিসিটি একবার পড়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

সবশেষে,

আমার এই কনটেন্টে আপনাদেরকে ডারাজ থেকে আয়ের সকল উপায়গুলো বলে দিয়েছি।আরো কিছু হয়তো উপায় পাওয়া যাবে তবে এগুলোর মধ্যে সাব ক্যাটাগরি আকারে পড়বে ।

শুবভকামনা আপনাদের জন্যে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *